স্বশিক্ষিত জ্ঞান সাধনা

স্বশিক্ষিত জ্ঞান সাধনা
খ্রিষ্টিয় অষ্টম শতকে এদেশের নওগাঁর পাহাড়পুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আশ্রমকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সোমপুর বিহার। সারাভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক, গবেষক, পণ্ডিত, সাধক এবং বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের বিচিত্রমুখী শিক্ষা প্রচার, জ্ঞানচর্চায় এই প্রতিষ্ঠানটি বহুদেশের পণ্ডিত- গবেষক ও শিক্ষাপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ইতিহাস থেকে ধারণা করা যায়- তার আগে থেকেই এদেশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার ধারা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। তা না হলে খ্রিষ্টিয় অষ্টম শতকে বাংলাদেশে সোমপুর বিহারের মতো এত সমৃদ্ধ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্টিত হতো না। এছাড়া, কুমিল্লার ময়নামতী বৌদ্ধবিহার, বগুড়ার পুণ্ড্রবর্দ্ধন এলাকাগুলোও এদেশীয় শিক্ষা, জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার স্বাক্ষরবাহী। উল্লেখ্য, এই সকল জ্ঞানতীর্থের অন্যতম সাধক আচার্য অতীশ দীপঙ্কর খ্রিষ্টিয় এগারো শতকে তিব্বতের রাজা কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে সে-দেশে শিক্ষা, জ্ঞান ও এদেশীয় সংস্কৃতি প্রচার করে সমূহ খ্যাতি অর্জন করেন। আজও তিব্বতের আধুনিক মানুষের কাছে তিনি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে পূজিত হচ্ছেন। অবশ্য, এর বাইরে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও এদেশের গ্রামীণজীবনে একটি স্বশিক্ষিত জ্ঞান, সাধনা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার ধারাও কম সমৃদ্ধ ছিল না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *